ঝুঁকিতে ৮ হাজার কেন্দ্র, সারা দেশে কড়া নিরাপত্তা বেস্টনী
- সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২০:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 18
ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে রাত পোহালেই। দেশের ২৯৯টি আসনে এই ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিএনপি ও তার শরিকরা যেমন এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তেমনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও প্রার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমকে বারবার বলা হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।ভোট গ্রহণের দিন সম্ভাব্য হুমকি, ধমকি ও যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেশের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট, বিজিবি, র্যাব ও আনসার বাহিনী সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নিরাপত্তায় নিয়োজিত আছে।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঝুঁকি বলতে গেলে সব ভোটকেন্দ্রেই রয়েছে। তাই প্রতিটি কেন্দ্রে এত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।কেউই বলতে পারবে না, কোন কেন্দ্র নিরাপদ নয়, কারণ সব কেন্দ্রই সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আওতায়। এতেই বোঝা যাচ্ছে, কোনো কেন্দ্রকেই নরমালভাবে দেখা হচ্ছে না।
তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কিছু কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে তা প্রতিহত করার জন্য বাহিনীগুলো সর্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
গোয়েন্দারা যা বলছে
নির্বাচন নিয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের এক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো বড় ধরনের ঘটনা ঘটেনি। বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনা ঘটলেও মাঠে থাকা সকল বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে, পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো ভালো ভূমিকা রেখেছে, যেন পরিস্থিতি আর না বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ যেমন একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোরও প্রত্যাশা, নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক, যা একটি ইতিবাচক দিক। ভোটাররা যেন হাসিখুশি মনে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যেই সব পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কেউ যদি নির্বাচন বা ভোট প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করার জন্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেই মাঠে রয়েছে বাহিনীগুলো।নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রস্তুতির একটি ব্যাখ্যা তিনি তুলে ধরেন—উন্নতমানের মশারির সঙ্গে তুলনা করে। যেভাবে মশারি মানুষকে মশার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে, ঠিক তেমনি নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা সেই উন্নত শক্ত মশারির মতো ঢেকে রাখা হয়েছে, যাতে কোনো অপরাধী বা নাশকতাকারী সুযোগ না পায়।
৮ হাজার ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিতে, বলছে পুলিশ সদর দপ্তর
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, লুট হওয়া অস্ত্র এখনো উদ্ধারের চেষ্টায় আছে হাজারের উপরে। পাশাপাশি দেশজুড়ে ৮ হাজার ৭৭০ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে নির্বাচনের নিরাপত্তায় ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ কাজ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তর আরও বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ৩ ধরনের—
কেন্দ্রে স্থির বা Static Force,
ভ্রাম্যমাণ বা Mobile Team,
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্ট্রাইকিং টিম। একই সঙ্গে এবার কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষার্থে প্রযুক্তির ব্যবহার রয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারও তিন ধরনের—সিসি ক্যামেরা, বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা, জেলা পর্যায়ে ড্রোন।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় পুলিশের নিয়োজিত মোট সংখ্যা ১,৫৭,৮০৫ জন। এর মধ্যে কেন্দ্রে স্থির বা Static Force হিসেবে ৯৩,৩৯১ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সাপোর্ট বা সহায়তাকারী পুলিশের সংখ্যা ২৯,৭৯৮ জন। এ হিসেবে নির্বাচনে পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় মোট মোতায়েন থাকবে ১,৮৭,৬০৩ জন পুলিশ সদস্য।
নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লাইসেন্সকৃত অস্ত্র থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ কার্যক্রমের আওতায় ২৭ হাজার ৯৯৫টি লাইসেন্সকৃত বৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে জমা পড়েছে।
গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন থানায় হামলা চালিয়ে অস্ত্র লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটে। এ পর্যন্ত পুলিশ ৪ হাজার ৪৩২টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং লুট হয়েছিল ৫ হাজার ৭৬৩টি। ১ হাজার ৩০০-এর উপরে অবশিষ্ট অস্ত্রগুলো উদ্ধারে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এদিকে ৮ হাজার ৭৭০ ভোটকেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ১৬ হাজার ভোটকেন্দ্র মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনের জন্য নিরাপত্তা বিষয়সহ অন্যান্য বিষয়ে এই প্রথম পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুলিশরাও বর্তমানে মাঠে আছে, নিরাপত্তার কাজ করছে।
পুলিশ প্রধান যা বললেন
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহরুল আলম—বেশ কিছুদিন আগে তিনি বাংলানিউজকে বলেছিলেন, সারাদেশের ৮ হাজারের উপরে ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সদস্য নিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া পুলিশ সব সময় পরিবহন সংকটের মধ্যে থাকে, এর জন্যই পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী যানবাহন রিকুইজিশন করে থাকে। বর্তমানে নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের অনেক যানবাহন প্রয়োজন, কিন্তু পুলিশ বিভাগের প্রয়োজনের তুলনায় এত যানবাহন নেই। জনগণের নিরাপত্তা ও নির্বাচনের নিরাপত্তার জন্য এইবার বেশি সংখ্যক যানবাহন রিকুইজিশন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনকে ঘিরে একটি বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে আমাদের পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন অংশীজনের পরামর্শ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা—সবকিছুই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। সব পরিকল্পনার একমাত্র লক্ষ্য সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা।
তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে কিছু সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে জানিয়ে আইজিপি বলেন, ‘আমাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১১ ডিসেম্বর থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৩১৭টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন ৬০৩ জন এবং নিহত হয়েছেন ৫ জন। আমরা মনে করি, প্রতিটি মৃত্যু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে যেন একটি মৃত্যুও না ঘটে। আমরা সব ধরনের সহিংসতা কমিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কতটা সফল হয়েছি, তা আপনারা এবং দেশের জনগণ মূল্যায়ন করবেন।’
মহাপরিচালক বিজিবি
আজ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচনকালীন যেকোনো প্রকার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বিজিবির একাধিক নির্বাচনী বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় বেইজ ক্যাম্পে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এমন নির্দেশনা দেন তিনি।
এছাড়া বাংলানিউজকে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম জানান, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা-সহ সারা দেশে ৩৭ হাজার ৪০০-এরও বেশি বিজিবি সদস্য ইতোমধ্যে মাঠে মোতায়েন রয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি হেলিকপ্টার সর্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটের মাঠে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে দেশের যেকোনো প্রান্তে এসব হেলিকপ্টার পৌঁছাতে সক্ষম হবে।
প্রয়োজনে অতিরিক্ত ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী হেলিকপ্টার থেকে নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এছাড়া নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে বিজিবি বা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য আহত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া ৩ পার্বত্য জেলায় ১০৮ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচনের নিরাপত্তায় কাজ করছে।
এছাড়া ঢাকায় আর্মার্ড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি) ও র্যাপিড অ্যাকশন টিমের বিশেষ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে বিজিবির ডগ স্কোয়াড দ্বারা বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
ডিএমপিতে থাকবে ২৬ হাজার পুলিশ
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে রাজধানীতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার পাশাপাশি মাঠে থাকবে পুলিশের বিশেষায়িত একাধিক ইউনিট। ডিএমপিতে ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে।
র্যাবের ৮ হাজার সদস্য নিরাপত্তায়
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সদর দপ্তর বলছে, জাতীয় নির্বাচন ভোটগ্রহণ ও গণনার সময়ও নিরাপত্তার জন্য র্যাব পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী নিরাপত্তা নতুন করে সাজানো হয়েছে। সারা দেশে নিরাপত্তার জন্য ৮ হাজার র্যাব সদস্য কাজ করছে। এর পাশাপাশি পুরো ৩০০ আসনে র্যাবের ৬৪৮টি টহল টিম ডিউটি করছে।
এবার নিরাপত্তায় আনসারের বিপুল সদস্য
আনসার সদর দপ্তর আগেই জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী নিরাপত্তার বৃহৎ কর্মযজ্ঞে আনসার ও ভিডিপির প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার সদস্য দেশের ৪২ হাজার ৭৬৬টি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
নির্বাচনে নিরাপত্তায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকা মহানগরে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন—
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন—নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সকল সেনাসদস্যকে নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রাখতে হবে।
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকারী সব সংস্থার মধ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক ও আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করার লক্ষ্যে সেনাপ্রধান গত ২২ জানুয়ারি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, বগুড়া, বরিশাল, যশোর, কক্সবাজার, সিলেট, ঘাটাইল ও সাভার এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, সব বিভাগ ও জেলার বেসামরিক প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। জনগণের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করে চলছে, পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান আছে।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ‘In Aid to Civil Power’-এর আওতায় স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ৩,৭৩০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে ১,২৫০ জন সদস্য ৬–১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে ২১ জেলার ৩৫টি উপজেলায় স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচন সহায়তায় বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার, পরিবহন বিমান ও UAV সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে উপকূল ও দ্বীপাঞ্চলে নৌবাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা—
আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিন্স এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বোট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে, যার আওতায় ড্রোন ও বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাসমূহে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, নিয়মিত টহল ও ফুট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে নৌবাহিনী। উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) ও সোয়াডস টিম সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
এছাড়া ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বদ্ধপরিকর—এমনটাই জানিয়েছিল আইএসপিআর।
অপরদিকে নির্বাচন মনিটরিং সেল গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিমানবাহিনীর মানুষবিহীন আকাশযান (ইউএভি) দিয়ে ভোটের মাঠ মনিটরিং করা হবে। এ লক্ষ্যে দেশের আকাশ থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখবে এসব আকাশযান।
এজেডএস/এজে















