বাজারে বিক্রেতা-ক্রেতা দু’পক্ষই কম, এখনও বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ-মাংস
- সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 21
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়েছিল, বেড়েছিল মাছ, মাংস ও সবজির দাম। নির্বাচনের পরপরই আবার ঢাকায় পণ্য আসা শুরু হয়েছে। সরবরাহ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কিছু পণ্যের দাম কমতে শুরু করলেও এখনো মাছ ও মুরগির মাংস বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে পাঙ্গাস ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ টাকা, দেশি কই ৭০০ টাকা, ১.৫–২ কেজি ওজনের রুই ৪৪০ টাকা, বাইম ৯০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ টাকা, দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের কাতলা ৩২০ টাকা, টাকি ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছু বাজারে রুই ও কাতলা ৪০–৫০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
ইলিশ মাছের মধ্যে ৩০০ গ্রাম ওজনের কেজি ৮৫০ টাকা এবং ৪০০ গ্রাম ওজনের ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বড় পোয়া মাছ ২২০ টাকা এবং ছোট ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।অন্যান্য মাছও তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
নির্বাচনের কারণে দুই দিন যান চলাচল কম থাকায় মুরগি ও মাছের সরবরাহে প্রভাব পড়ে। ফলে দাম এখনো কিছুটা চড়া। তবে অনেক বাজারে সকাল ৯টার পরও নতুন করে পণ্য প্রবেশ করতে দেখা গেছে।এতে কিছু দোকানে মাছ, মুরগি ও সবজি তুলনামূলক কম দামে বিক্রি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ছুটির কারণে অনেক বিক্রেতা গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় কিছু দোকান বন্ধ রয়েছে। ফলে বাজারে দামের পুরো প্রভাব পড়তে আরও সময় লাগতে পারে। এ সময় ক্রেতার সংখ্যাও কম দেখা গেছে।
রাজধানীর বাজারে সোনালি মুরগি ৩৩০ টাকা, দেশি ক্রস সোনালি ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকা (বাজারভেদে), ব্রয়লার মুরগি ২২০ টাকা এবং লেয়ার ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।গরুর মাংস ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি। ডিমের হালি ৪০ টাকা।
সবজির মধ্যে মরিচ ১৬০ টাকা, প্রতিটি লাউ ৯০–১০০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা কেজি এবং শিমের ধরনভেদে ৬০, ৯০ ও ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দাম তুলনামূলক কম। নতুন আলু প্রতি কেজি ২০ টাকা।
বেগুনের দাম মান ও ধরনভেদে ৬০, ৮০ ও ১০০ টাকা। ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আড়তের কাছাকাছি বাজারে কিছু সবজির দাম তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।
মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি, দেড় কেজি ওজনের ছোট মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, গাজর ৬০ টাকা, উচ্ছে ১৪০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, পাকা টমেটো ৬০–৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কচুর মুখি ৮০ টাকা, এক কেজি ওজনের ফুলকপি ৫০ টাকা, রানী ফুলকপি ৮০ টাকা এবং পাতা কপি ৫০ টাকা।
পেঁয়াজ ধরনভেদে ৫০–৬০ টাকা কেজি। আমদানি করা বড় রসুন ২০০ টাকা, অপেক্ষাকৃত কম মানের ১৫০–১৬০ টাকা এবং দেশি রসুন ১০০ টাকা কেজি।
মিরপুর-১৩ ব্যাটালিয়ন বাজারের মুরগি বিক্রেতা হাবিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের কারণে যোগাযোগ সমস্যায় মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে। কেজিতে ১৫–২০ টাকা বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তাই দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে আজ বিকেল বা কাল সকাল থেকে দাম কমে আসবে।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাক প্রায় আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। লাল শাক প্রতি আঁটি ১৫–২০ টাকা, কলমি শাক ১৫ টাকা, পালং শাক ২০ টাকা, মুলা ১০–১৫ টাকা, পুঁই শাক ৪০–৫০ টাকা কেজি এবং লাউ শাক ৫০ টাকা।
চালের দাম দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় অপরিবর্তিত। পাইজাম চাল ৫৬–৫৮ টাকা, আটাশ ৬০ টাকা, মিনিকেট ৮০–৮৫ টাকা (ব্র্যান্ডভেদে)। দেশি ও আমদানি করা ক্যাঙ্গারু ব্র্যান্ডের ডাল ১৭০ টাকা, আমদানি করা মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, ছোলা ১০০ টাকা এবং ছোলার ডাল ১১০ টাকা কেজি।
মিরপুর-২ সেকশনের বাজারে ক্রেতা আবেদ আলী বলেন, মুরগি ও মাছের দাম কয়েকদিন ধরে চড়া। বিক্রেতারা নির্বাচনের অজুহাতে দাম বাড়িয়েছে। যখনই কোনো উপলক্ষ পায়, তখনই দাম বাড়ায়। যৌক্তিকতা বা নৈতিকতার তোয়াক্কা করে না। বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থারও তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না।
তিনি আরও বলেন, পণ্যের সরবরাহ বাড়লেই হবে না, সঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কি না, অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও নজরদারিতে রাখতে হবে।
জেডএ/এএটি















