বিশেষ সহকারীকে ‘কলুর বলদ’ বানিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়নের চেষ্টা

রিপোর্টারের নাম
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 21

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবকে ভুল বুঝিয়ে তাকে কলুর বলদ বানিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলেছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ। 

রোববার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ ‘নয়জনের সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’র আন্তর্জাতিক সম্পাদক আজিজুর রহমান সোহেল, যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি গোলাম মাহফুজ জনি, মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’র যমুনা ফিউচার পার্কের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বক্তব্য দেন।

গোলাম মাহফুজ জনি বলেন, সরকার যদি ট্যাক্স সহনীয় করে দেয় এবং সেখানে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা করে দেওয়া হলে তাহলে আমরা সবাইমিলে রাজস্ব দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশীজন হতে চাই।আমাদের জনগণের যে আর্থিক ক্ষতি হবে তার পদক্ষেপ না নিয়ে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছি, আমাদের চোরাই ব্যবসায়ী বলা হচ্ছে। আজকের পর থেকে আমরা আর একথা শুনতে চাই না। অনেক মানুষ আছেন যারা নতুন ফোন কেনার সামর্থ নেই।তারা পুরাতন ফোন কিনে। আমরা তাদের জন্য ব্যবসা করি। 

তিনি আরও বলেন, বিটিআরসিতে ভাঙচুর করেছে সাধারণ মানুষ। আজকের পর আর কোনো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।আর যাদের ধরা হয়েছে তাদের যেন দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়। 

গোলাম মাহফুজ জনি বলেন, নয়জনের সিন্ডিকেট মিলে এটা প্রেশারাইজ করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে কলুর বলদ বানিয়ে এই সিস্টেমটা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে জহিরুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগের ফান্ড অর্গানাইজার। আর শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী তার প্রধান সহকারী। 

আজিজুর রহমান সোহেল বলেন, মিথ্যা মামলায় আমাদের অনেক ব্যবসায়ী এখনও আটক আছে।নানা চক্রান্ত করে এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চক্রান্তকারী গোষ্ঠী আজকে সফল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জহিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের ফান্ড অর্গানাইজার। এ বিষয়ে আমাদের পাকা প্রমাণ আছে। যিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র বদল করে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’র যমুনা ফিউচার পার্কের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বলেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের নিবন্ধনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই নেটওয়ার্ক চলে যায়। আমাদের তিন মাসের যে সময় দেওয়া হয়েছিল সেই ম্যাসেজটাও ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এনইআইআর বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফাঁদ। এনইআইআর বাস্তবায়ন হবে ভারত থেকে। জনগণ আমাদের প্রশ্ন করছে কেন আমার তথ্য অন্য দেশের সার্ভারে থাকবে। এতে কি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা হুমকি হবে না? 

তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের সমালোচনা করে গোলাম মাহফুজ জনি বলেন, নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত তথ্য অন্যদেশে যাবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। আর এর সঙ্গে জড়িত জহিরুল ইসলামের সম্পত্তি ক্রোক করার দাবি জানানো হয়। 

গোলাম মাহফুজ জনি, দেশের জন্য, এনইআইআর বাস্তবায়নে মোস্তফা জব্বারের কোম্পানি সিনোসিস আইটিকে টাকা দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষের জন্য ভালো হলে অবশ্য এটি বাস্তবায়ন করেন, কিন্তু তৃতীয় পক্ষ দিয়ে এটা করবেন তা হবে না। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দিয়ে বাস্তবায়ন করুন। 

এমআইএইচ/আরআইএস

ট্যাগ :

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশেষ সহকারীকে ‘কলুর বলদ’ বানিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়নের চেষ্টা

সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৮:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যবকে ভুল বুঝিয়ে তাকে কলুর বলদ বানিয়ে এনইআইআর বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলেছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ। 

রোববার (১ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ ‘নয়জনের সিন্ডিকেটের’ বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’র আন্তর্জাতিক সম্পাদক আজিজুর রহমান সোহেল, যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি গোলাম মাহফুজ জনি, মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’র যমুনা ফিউচার পার্কের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বক্তব্য দেন।

গোলাম মাহফুজ জনি বলেন, সরকার যদি ট্যাক্স সহনীয় করে দেয় এবং সেখানে গ্রহণযোগ্য নীতিমালা করে দেওয়া হলে তাহলে আমরা সবাইমিলে রাজস্ব দিয়ে দেশের উন্নয়নে অংশীজন হতে চাই।আমাদের জনগণের যে আর্থিক ক্ষতি হবে তার পদক্ষেপ না নিয়ে আমাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছি, আমাদের চোরাই ব্যবসায়ী বলা হচ্ছে। আজকের পর থেকে আমরা আর একথা শুনতে চাই না। অনেক মানুষ আছেন যারা নতুন ফোন কেনার সামর্থ নেই।তারা পুরাতন ফোন কিনে। আমরা তাদের জন্য ব্যবসা করি। 

তিনি আরও বলেন, বিটিআরসিতে ভাঙচুর করেছে সাধারণ মানুষ। আজকের পর আর কোনো ভাইকে গ্রেপ্তার করা হলে পরিস্থিতি খারাপ হবে।আর যাদের ধরা হয়েছে তাদের যেন দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হয়। 

গোলাম মাহফুজ জনি বলেন, নয়জনের সিন্ডিকেট মিলে এটা প্রেশারাইজ করে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে কলুর বলদ বানিয়ে এই সিস্টেমটা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে জহিরুল ইসলাম। তিনি আওয়ামী লীগের ফান্ড অর্গানাইজার। আর শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী তার প্রধান সহকারী। 

আজিজুর রহমান সোহেল বলেন, মিথ্যা মামলায় আমাদের অনেক ব্যবসায়ী এখনও আটক আছে।নানা চক্রান্ত করে এনইআইআর বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চক্রান্তকারী গোষ্ঠী আজকে সফল। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জহিরুল ইসলাম আওয়ামী লীগের ফান্ড অর্গানাইজার। এ বিষয়ে আমাদের পাকা প্রমাণ আছে। যিনি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরিত্র বদল করে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি।

মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’র যমুনা ফিউচার পার্কের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আজাদ বলেন, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের নিবন্ধনের সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই নেটওয়ার্ক চলে যায়। আমাদের তিন মাসের যে সময় দেওয়া হয়েছিল সেই ম্যাসেজটাও ফেসবুক পেজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি বলেন, এনইআইআর বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফাঁদ। এনইআইআর বাস্তবায়ন হবে ভারত থেকে। জনগণ আমাদের প্রশ্ন করছে কেন আমার তথ্য অন্য দেশের সার্ভারে থাকবে। এতে কি দেশের সার্বিক নিরাপত্তা হুমকি হবে না? 

তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়নের সমালোচনা করে গোলাম মাহফুজ জনি বলেন, নির্বাচনের আগে ব্যক্তিগত তথ্য অন্যদেশে যাবে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে। সংবাদ সম্মেলনে পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। আর এর সঙ্গে জড়িত জহিরুল ইসলামের সম্পত্তি ক্রোক করার দাবি জানানো হয়। 

গোলাম মাহফুজ জনি, দেশের জন্য, এনইআইআর বাস্তবায়নে মোস্তফা জব্বারের কোম্পানি সিনোসিস আইটিকে টাকা দেওয়া হয়েছে। দেশের মানুষের জন্য ভালো হলে অবশ্য এটি বাস্তবায়ন করেন, কিন্তু তৃতীয় পক্ষ দিয়ে এটা করবেন তা হবে না। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী দিয়ে বাস্তবায়ন করুন। 

এমআইএইচ/আরআইএস